শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

সেকশন

 

তাজউদ্দীন মেডিকেলে লিফটে আটকে রোগীর মৃত্যুর জন্য ধাক্কাধাক্কি দায়ী!

Asad
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪

---

গণবাণী ডট কম:

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকে থেকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে ‘লিফটে আটকে পড়া রোগীসহ লোকজন দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করায় লিফটের দরজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Door Safety) কাজ করে নাই’ বলে দাবী করা হয়েছে।

এতে আরো দাবী করা হয়েছে, লিফটে রোগীসহ অন্যরা ৪৫ মিনিট নয়, মাত্র ১০-১৫ মিনিট আটকে ছিলেন।

রোববার বিকালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিঠিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করছেন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো: জাহাঙ্গীর আলম ও গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আব্দুল হালিম।

রোববার রাত ১১টার দিকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো: জাহাঙ্গীর আলম । তিনি বলেন, চিঠিটি গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে যা বলা হয়েছে, এটি তাদের প্রাথমিক ধারণা।

চিঠির বিষয়ে বলা হয়েছে, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে লিফটে আটকা পড়ে রোগী মৃত্যু সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করণ প্রসঙ্গে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের আলোকে আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে অদ্য ১২/০৫/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ রোজ রবিবার M/S Rawson Eleveter’s এর সরবরাহকৃত Movi Brand এর ১ টি লিফট আনুমানিক বেলা ১১: ১৫ ঘটিকায় ৯ম ও ১০ তলার মাঝামাঝি রোগী ও রোগীর দর্শণার্থীসহ হঠাৎ আটকে যায়।

---

চিঠিতে লিফটটি কাজ না করার জন্য লিফটে আটকে পড়া রোগীসহ লোকজনকে দায়ী করে দাবী করা হয়, ‘প্রাথামিকভাবে লিফটটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য ৯ম ও ১০ তলার মাঝখানে আটকে গেলে লিফটির ARD (স্বয়ংক্রিয় রেসকিউ ডিভাইস) কাজ করার জন্য ০১ (এক) মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু লিফটে আটকে পড়া রোগীসহ লোকজন দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করায় লিফটের Door Safety কাজ করে নাই’।

এখানে প্রশ্ন থাকে যে, যে রোগীকে সিসিইউ সাপোর্ট দেয়ার জন্য রেফার্ড করা হয়, সেই রোগী দরজা ধাক্কাধাক্কি করলো কিভাবে?

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘পরবর্তীতে লিফট অপারেটর লিফট মেশিন রুমে হাতদিয়ে ম্যানুয়ালি লিফট টি একটি ফ্লোরে আনার পূর্বেই রোগীসহ লোকজন দরজা খুলে বের হয়ে আসে। এই সকল কাজ সম্পন্ন হতে ইতোমধ্যে ১০-১৫ মিনিট সময় অতিবাহিত হয়’।

চিঠিতে রোগীর অসুস্থতা নিয়ে বলা হয়েছে,‘রোগীটি হার্টের রোগী ছিলো। তাৎক্ষণাৎ রোগীটিকে জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন’।

মাঝপথে ত্রুটি দেখা দেওয়া লিফটটি আগে থেকে ত্রুটিপূর্ণ ছিল না দাবী করে চিঠিতে লিফটির সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘লিফটটি নিয়মিত সার্ভিস ও মেইনটেনেন্স করা হয় এবং বর্তমানে লিফটি চালু আছে। আটকে পড়া রোগীসহ অন্যান্য লোকজন দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করায় লিফটির সমস্যা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চিঠিতে জানানো হয়, ঘটনারটির সঠিক কারণ অনুসন্ধানের ইতোমধ্যেই অত্র কার্যালয়ের স্মারক নং-১০২১, তারিখ-১২/০৫/২০২৪খ্রিঃ মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)।

চিঠিতে গণমাধ্যমকে ভূল তথ্য প্রচারের জন্য অভিযুক্ত করে বলা হয়েছে, পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে যে, রোগীটি ৪৫ মিনিট লিফটে আটকা পড়ে ছিলো তথ্যটি সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত; গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার লিফট আটকে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে মেডিসিন বিভাগ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তরের সময় লিফটে ৪৫ মিনিট আটকে থেকে রোগীর মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া রোগীর নাম মমতাজ (৫০)। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিগাও গ্রামের শরীফ উদ্দীনের স্ত্রী।

এর আগে গত ৪ মে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী হাসপাতালের ১২তলা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মারা যাওয়া রোগীর নাম জিল্লুর রহমান (৭০)। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া এলাকার কাসেম আলীর ছেলে। ৪ মে দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতালের ১২তলায় মেডিসিন বিভাগের পাশের বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লিফটে আটকে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।

মন্তব্য

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon