শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

সেকশন

 

শ্রম আইন লঙ্ঘন: ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়ল ১৪ আগস্ট পর্যন্ত

গণবাণী ডট কম
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৪

---

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম এ আউয়াল জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর এই আদেশ দেন।

বাকিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসসহ চারজন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল জামিন স্থায়ী না করে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করেন। একই সঙ্গে ওই দিন আপিল শুনানির দিন ধার্য করেন।’

ড. ইউনূসসহ চারজনের পক্ষে তাঁদের আইনজীবী আপিল শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন। আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘ড. ইউনূসের সাজা স্থগিতের বিষয়ে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হবে।’ পরে ট্রাইব্যুনাল সময় দেন।

গত ৩ মার্চ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম এ আউয়াল জামিনের মেয়াদ ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল শুনানির জন্য একই দিন ধার্য করেন। পরে ২৩ মে পর্যন্ত ও ৪ জুলাই জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে এ মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের অভিযোগ আনা হয়।

এই মামলায় গত ১ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আপিল করার শর্তে ড. ইউনূসসহ চারজনকেই এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত।

মামলার নথি অনুসারে, আইএফইডি কর্মকর্তারা ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে শ্রম আইনের বেশকিছু লঙ্ঘন খুঁজে পান।

সেই বছরের ১৯ আগস্ট গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। এছাড়া কর্মচারীদের পার্টিসিপেশন ও কল্যাণ তহবিল এখনো গঠন করা হয়নি এবং কোম্পানির যে লভ্যাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা ছিল তার পাঁচ শতাংশও পরিশোধ করা হয়নি।

এ মামলায় গত ১ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। রায় ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আপিল করার শর্তে ড. ইউনূসসহ চারজনকে এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত।

আজ ড. ইউনূসসহ চারজনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন-ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন-ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ ও এস এম মিজানুর রহমান।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন-সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বরত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।

মন্তব্য

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon