ভারতের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান ক্রুসহ ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া বিমান সকল যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ওপর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানেও নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) এ খবর দিয়েছে, বিবিসি, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের দক্ষিণে অবস্থিত গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি আবাসিক এলাকায় ডাক্তারদের বাসভবনের উপর ভেঙে পড়ে।
বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ২৩২ জন যাত্রী এবং ১০ জন ক্রু সদস্য নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটিতে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান যাত্রী ছিলেন। উড়োজাহাজে ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১টি শিশু ও দুটি নবজাতক ছিল। বিমানটির ফ্লাইট নাম্বার ছিল এআই ১৭১। উড়োযানটি একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। যার ধারণক্ষমতা ২৫৬ জন।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে ভবনটির ওপর উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়েছে, তা চিকিৎসকদের হোস্টেল। আমরা ইতিমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় অভিযান চালিয়েছি, শিগগির বাকি অংশেও অভিযান চালানো হবে।’
অন্য একটি সূত্র জানায়, উড়োজাহাজটি সরকারি বি জে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের খাওয়ারঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে অনেক মেডিকেলশিক্ষার্থীও প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আহমেদাবাদের মেঘানীনগর এলাকার কাছে প্রচণ্ড ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী পৌঁছেছে এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দলগুলোকে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ এখনো দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সাথে দুর্ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন। মোদি দুই মন্ত্রীকে আহমেদাবাদে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সকল সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে বলেছেন।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বলেছেন, কর্মকর্তাদের ‘তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম’ পরিচালনা করার এবং ‘যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে’ ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিধ্বংসী এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলের পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। এই মুহূর্তে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা করা।
বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬.২৫ মিনিটে বিমানটি গ্যাটউইকে নামার কথা ছিল। গ্যাটউইক বিমানবন্দরের সামনে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা জড়ো হচ্ছেন। সংবাদ কর্মীদের বিমানবন্দরের নর্থ টার্মিনালে একটা জায়গা দেওয়া হয়েছে, যদিও এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানগুলো সাউথ টার্মিনাল থেকে যাতায়াত করে। তবে, সেখানে এয়ার ইন্ডিয়ার কোনো কর্মীকে এখনও দেখা যাচ্ছে না।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগের ফ্লাইট রেডারে কয়েক সেকেন্ডের যাত্রাপথ… ছিল এরকম, স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ - বিমানটি তখনও মাটিতে
দুপুর ১:৩৪ - বিমানটি তখনও মাটিতেই, তবে গতি বাড়াচ্ছে
দুপুর ১:৩৮ - আকাশে উড়ল বিমানটি। উচ্চতা ৬২৫ ফুট। এখানেই সিগন্যাল হারিয়ে গেল।
এর কিছুক্ষণ পরে ই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
তবে, দুর্ঘটনার আগে বিপদসংকেত পাঠিয়েছিলেন বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলট। আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি জানিয়েছে, বিমানটি আহমেদাবাদ থেকে স্থানীয় সময় একটা ৩৯ মিনিটে আকাশে ওড়ে।
বিমানটির পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল বিমান থেকে বিপদ বার্তা দিয়েছিলেন, কিন্তু তারপরে এটিসির ডাকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল জানিয়েছে, বিমানটি আহমেদাবাদ থেকে স্থানীয় সময় একটা ৩৯ মিনিটে আকাশে ওড়ে। উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ফ্লাইট রাডারের তথ্য, রানওয়ে থেকে ওঠার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ৬২৫ ফিট উচ্চতায় বিমানের সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরের বাইরের দিকে পড়ে বিমানটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা হঠাৎই ভীষণ জোরে আওয়াজ পান, আর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান। বহু মানুষ এখানে জড়ো হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা কাছাকাছি এলাকা থেকে এসেছেন। মৃতদেহগুলো এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি এখনও আসে নি।
আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলটদের তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা ডিজিসিএ।
ডিজিসিএকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে যে, বিমানটির পাইলট “ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল একজন এলটিসি ছিলেন। তার ৮২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। কো-পাইলটের ১১০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল।
এলটিসির অর্থ হল লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন, অর্থাৎ তিনি অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতেন।
মন্তব্য