মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২

সেকশন

 

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা, গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি থাকবে সংবিধানে

গণবাণী ডট কম
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৮:৪৯ | পঠিত: ৫২৪

---

ছাত্র-জনতার অংশ গ্রহণে জুলাই অভ্যত্থানের মূখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঘোষিত হয়েছে বহু আকাংখিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এই ঘোষণাপত্রে ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-কে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’পাঠ করার সময় প্রধান উপদেষ্টার সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের বিএনপি, এনিসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন ওই অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

ঘোষণাপত্র পাঠকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘৭২ এর সংবিধানের অপপ্রয়োগ করে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তপশিলে এই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্র জনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষাও দেওয়া হবে।’

---

ঘোষণাপত্রে বিগত দেড় দশকের শাসনকে ‘ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই সময়ে গুম, খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল। ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা হয়। এ ছাড়া তিনটি প্রহসনের নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) এবং সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার বৈষম্যমূলক নীতির কারণে জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এই গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার এই অদম্য অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ যোগ দেয়। ফ্যাসিবাদী বাহিনী নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করেন। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন জানান। গত বছরের ৫ আগস্ট গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

ঘোষণাপত্রের মূল অঙ্গীকার ও লক্ষ্য

জুলাই ঘোষণাপত্রে নিম্নলিখিত মূল অঙ্গীকার ও লক্ষ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে:

রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-কে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা হবে।

সুশাসন ও আইনের শাসন: সুশাসন, সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিচার ও জবাবদিহি: বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের দ্রুত ও উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের সুরক্ষা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সাংবিধানিক সংস্কার: যুক্তিসংগত সময়ে অনুষ্ঠেয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

টেকসই উন্নয়ন: পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।

এই ঘোষণাপত্রকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তীব্র জনরোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে ভারতে চলে যান। তারপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত এ সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon
শিরোনাম:   গাজীপুর প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজীপুর প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গাছা খালের প্রাণ ফেরাতে ৮ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প: উদ্বোধন করলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবার পথ অনুসরণ: দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরে কৃষি জমির মাটি কাটার অপরাধে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড গাজীপুরের নতুন জেলা প্রশাসক সাবেক সাংবাদিক নুরুল করিম ভূঁইয়া দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন : গাজীপুরে আইজিপি ইমাম-পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ: প্রধানমন্ত্রী সংসদে দর্শক গ্যালারিতে অধ্যাপক ইউনূস, জুবাইদা ও জাইমা রহমান