![]()
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘শেখ হাসিনা যুগের’ অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জয় জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেলেও শেখ হাসিনাকে আর নেতৃত্বে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে জয় তার মায়ের অবসর পরিকল্পনা, দলের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
‘মা আর রাজনীতিতে ফিরতে চান না’
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান, তবে তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।” শেখ হাসিনার বয়স এখন ৭৮ বছর উল্লেখ করে জয় বলেন, “এমনিতেই এটি তার শেষ মেয়াদ হতো। তিনি এখন অবসরের কথা ভাবছেন।”
যখন সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—তবে কি একে ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়? জয় উত্তর দেন, “সম্ভবত তাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগ একটি ৭০ বছরের পুরনো দল। শেখ হাসিনাকে নিয়ে বা তাকে ছাড়াই এই দল চলবে।”
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আগামী নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের সুযোগ অনিশ্চিত। এ প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, আওয়ামী লীগের এখনও ৪০-৫০ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন বন্ধ করে দেবে?”
২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ওঠা কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন, জনমত জরিপ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ের পথে ছিল, তাই অনিয়মের কোনো প্রয়োজন ছিল না। প্রশাসনের অতি-উৎসাহী কিছু লোক বিচ্ছিন্নভাবে কিছু করে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সহিংসতার অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পেছনে সরকারের ‘সহিংসতায় উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, “আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের তো প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে।”
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি নাকচ করে দেন। তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে এমন কোনো সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই এবং এসব অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে।
‘নিয়তির পরিহাস’
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে এক সময়ের নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি। জয় বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের নির্দেশে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে রাখা হলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মন্তব্য