![]()
রাজনৈতিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি—রাজার ছেলে রাজা হবে— এই ধারার অবসান ঘটাতে হবে। একজন শ্রমিক ভাই কিংবা বোনের সন্তান মেধাবী হলে তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। তাদের মধ্য থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক—এটাই আমাদের স্বপ্ন।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও শ্রমিকদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। গাজীপুর এ দেশের জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখলেও এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চরম অবহেলা করা হয়েছে। শিল্প যেখানে থাকবে, পরিকল্পনাও সেখানে থাকতে হবে। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে গাজীপুরকে প্রকৃত শিল্পাঞ্চলের মর্যাদায় সাজানো হবে।
তিনি শ্রমিকদের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা চরম বৈষম্যের শিকার। একই কাজ করেও পুরুষ ও নারীর বেতন ভিন্ন—এই বৈষম্য আর চলবে না।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘গর্ভবতী অবস্থা থেকে শুরু করে বাচ্চার আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত মায়েরা দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন এবং বাকি তিন ঘণ্টা বাচ্চাকে সময় দেবেন, যা বাচ্চার অধিকার। অনেকে বলতে পারেন, এতে তাদের আয় কমে যাবে কি না; অবশ্যই কমবে না। কারণ, বাকি তিন ঘণ্টার স্যালারি সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করবে। একটি সুস্থ মা এবং সুস্থ শিশু আগামী দিনের সুস্থ সমাজের জন্য এই সম্মানটুকু তাদের দিতেই হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক মা আট ঘণ্টা অবুঝ বাচ্চাকে একা রেখে কাজ করতে পারেন না বলে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু আমরা চাই, মায়েরা চাকরিতেও থাকবেন, আবার বুকের সন্তানকেও জড়িয়ে ধরবেন। শুধু তাই না, শিল্প এলাকায় আমরা সংখ্যা নির্ধারণ করে দেব যে নির্দিষ্টসংখ্যক নারী শ্রমিক থাকলে সেখানে অবশ্যই তাদের বাচ্চাদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে। যেখানে কাজের ফাঁকে আধ ঘণ্টা গিয়ে তাঁরা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবেন এবং খবর নিতে পারবেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে রডের বদলে বাঁশ, সিমেন্টের বদলে ছাই ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। উন্নয়নের নামে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ঋণখেলাপিদের আশ্রয় দিয়ে কখনো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়। যারা সত্যিই দুর্নীতিমুক্ত দেশ চায়, তাদের আগে নিজেদের ঘর থেকে শুরু করতে হবে।
জুলাই আন্দোলন কোনো বেকার ভাতা কিংবা সাময়িক দাবির জন্য নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলন ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক কর্মসংস্থানের দাবিতে সংঘটিত হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যুবক ও মায়েরা একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইনসাফের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় তিনি গাজীপুর-১ আসনে শাহ আলম বখশী (দাঁড়িপাল্লা), গাজীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান (শাপলা কলি), গাজীপুর-৩ আসনে মাওলানা এহসানুল হক (রিকশা), গাজীপুর-৪ আসনে সালাহউদ্দিন আইউবী (দাঁড়িপাল্লা), গাজীপুর-৫ আসনে মো. খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা) এবং নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার (শাপলা কলি)-কে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
মন্তব্য