![]()
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুর জেলা ও মহানগর এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যা ব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ১৮ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ৯৪০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি বিশেষ কেন্দ্র নির্ধারিত রয়েছে পোস্টাল ব্যালটের জন্য। নিরাপত্তার স্বার্থে ৯৩৫টি কেন্দ্রকেই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেসব কেন্দ্রের চারপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নেই, সীমানা প্রাচীর নেই কিংবা যাতায়াত ব্যবস্থা কিছুটা দুর্গম-সেগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও মালামাল বিতরণ
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব সামগ্রী পরিবহন ও সংরক্ষণে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
গাজীপুরের নির্বাচনী পরিসংখ্যান একনজরে:
গাজীপুর জেলার ৫টি আসনে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন ৪২ জন প্রার্থী। গুরুত্বপূর্ণ এই জেলাটিতে ভোটার ও কেন্দ্রের সংখ্যা নিম্নরূপ:
বিবরণ সংখ্যা
মোট ভোটার : ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন
পুরুষ ভোটার : ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৮ জন
নারী ভোটার : ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৭ জন
হিজড়া ভোটার : ৩৪ জন
মোট ভোটকেন্দ্র : ৯৪০টি
মোট ভোটকক্ষ : ৫ হাজার ১৭৩টি
প্রশাসনের আশ্বাস ও আহ্বান
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর টহল শুরু হওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
মন্তব্য