![]()
![]()
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির অন্তত পাঁচটি প্রধান শহরে আকস্মিক ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। মার্কিন প্রশাসন ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হামলার লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট:
সিএনএন-এর লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক হুমকি মোকাবিলা করা এবং অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইসরায়েল জুড়ে ‘স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। তিনি এই হামলাকে ‘পূর্বসতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আক্রান্ত শহর ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ফার্স নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ এবং কারমানশাহ শহর হামলার শিকার হয়েছে।
• তেহরান: শহরের কেন্দ্রস্থল, বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
• যোগাযোগ: নেটব্লকস জানিয়েছে, হামলার পর তেহরানসহ বিভিন্ন অংশে ইন্টারনেট সংযোগ ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মোবাইল নেটওয়ার্কও অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন।
• আকাশসীমা: হামলার পরপরই ইরান ও ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বেসামরিক বিমানগুলো এই অঞ্চল এড়িয়ে চলছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও প্রস্তুতি
ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) নিশ্চিত করেছে যে, তারা এই আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েলের দিকে বিশাল ঝাঁক ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও তাদের দেশে সাইরেন বাজার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তারা দেশের সব গভর্নরকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অক্ষত রয়েছেন এবং সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ স্থানে আছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, “ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা ইউরোপ ও আমেরিকার মাতৃভূমিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প এবং নৌবাহিনীকে ধ্বংস করে দিতে যাচ্ছি। তাদের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।”
বিশ্লেষকদের অভিমত
অধ্যাপক মেহরান কামরাভার মতো বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা মূলত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সম্ভাব্য আলোচনাকে নস্যাৎ করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, কাতারস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
সর্বশেষ অবস্থা:
বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে আকাশপথে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর অবস্থানগুলোতেও ইসরায়েল বিমান হামলা জোরদার করেছে। নিহতের বা সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।
মন্তব্য