আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ মার্চ, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের শুরুর দিকের সেই আত্মবিশ্বাস এখন বাস্তবতার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ‘শক অ্যান্ড অ’ (Shock and Awe) বা আকস্মিক তীব্র হামলার মাধ্যমে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় ধস নামানো। কিন্তু যুদ্ধের বর্তমান চিত্র বলছে, প্রাথমিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
শাসন পরিবর্তন বনাম সামরিক বাস্তবতা
শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল, তীব্র বিমান হামলায় ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং অভ্যন্তরীণ জনরোষের মুখে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। তবে কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ মেলেনি। উল্টো তেহরান দ্রুত পুনর্গঠিত হয়ে পাল্টাহামলা শুরু করেছে এবং সংঘাতকে আঞ্চলিক মাত্রায় ছড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের’ (War of Attrition) দিকে টেনে আনছে।
ওয়াশিংটনের দ্বৈত বার্তা ও দোটানা
মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ দোটানা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
• প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ: তিনি একদিকে দাবি করেছেন এটি কোনো “অন্তহীন যুদ্ধ নয়”, আবার অন্যদিকে স্বীকার করেছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দ্রুত সাফল্যের রাজনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধের জটিল বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই স্ববিরোধী অবস্থান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
• পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও: তিনি এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘পুরোপুরি নির্মূল’ করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন এখন ‘শাসন পরিবর্তন’-এর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে সরে এসে আপাতত ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
মাঠের চিত্র: বিপাকে ইসরায়েলও
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে অভিযান সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকার বেশ কিছু ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মূলত ইরানকে দ্রুত কোণঠাসা করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা মাঠপর্যায়ে এখনো কার্যকর হয়নি।
‘ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার’ খেলায় ইরান
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন সামরিক শক্তির চেয়ে ‘ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার’ (Imposing Costs) কৌশলে বেশি মনোযোগী। তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শেষ করে দেওয়া এবং মিত্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার দিকে জোর দিচ্ছে।
মন্তব্য