![]()
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী স্থাপনাগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি শোধনাগার ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোলা অভিযোগও নাকচ করে দিয়েছে বাহিনীটি।
‘বিদ্যুতের বদলে বিদ্যুৎ’ নীতি
আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরান এখন থেকে ‘সমানুপাতিক পাল্টা জবাব’ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়:
“আমাদের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার- যদি আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা করা হয়, ইরান প্রতিশোধ হিসেবে দখলদার (ইসরায়েলের) শাসন ব্যবস্থার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এবং এ অঞ্চলের সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিশানা করবে, যারা আমেরিকান ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একইসঙ্গে আমেরিকান অংশীদারত্ব রয়েছে এমন যেকোনো অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোও আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আপনি আমাদের হাসপাতালকে নিশানা করেছেন, আমরা তা করিনি। আমাদের সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করেছেন, আমরা তা করিনি; আমাদের স্কুলগুলোকে নিশানা করেছেন, আমরা তা করিনি। কিন্তু যদি আপনি বিদ্যুৎকে নিশানা করেন, আমরা বিদ্যুতকেই নিশানা করব।”
ইরানের বাহিনীটি বলছে, “আমরা যেকোনো হুমকির সমান মাত্রায় প্রতিক্রিয়া জানাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমেরিকা আমাদের সক্ষমতা জানে না এবং তা মাঠে দেখবে।”
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও স্পিকারের হুঁশিয়ারি
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ বা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন:
• যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা করলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জরুরি অবকাঠামোতে ‘অপূরণীয় ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানো হবে।
• জ্বালানি কেন্দ্র ও তেলক্ষেত্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সব স্থাপনা ইরানের ‘বৈধ টার্গেট’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
• এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য বেড়ে যেতে পারে।
ইরানি বাহিনীর দাবি, আমেরিকা এখনো ইরানের প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নয় এবং যুদ্ধের ময়দানেই তারা এর প্রমাণ পাবে।
মন্তব্য