নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি সংশোধিত এবং দুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থায়নের উৎস
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান থেকে ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের এটি নবম এবং বর্তমান সরকারের প্রথম সভা।
অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫টি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়:
১. স্থানীয় সরকার বিভাগ: ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (GSIDP-2)’-এর ১ম সংশোধন অনুমোদিত হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,৪৫০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. চর উন্নয়ন প্রকল্প: ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (সিডিএসপি-৪)’-এর ৩য় সংশোধনীতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০.৭১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. তথ্যপ্রযুক্তি খাত: ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের ২য় সংশোধনীতে ব্যয় ২২৮.৪৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৫৩৩.৫৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকীকরণ: দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,২১৩.৭০ কোটি টাকা করা হয়েছে। মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
৫. স্বাস্থ্য শিক্ষা: ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় ২৬.৪৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১৩৯.৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬ সালের জুন।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সভায় মোট ১৯টি প্রকল্প উত্থাপন করা হলেও আলোচনার পর ৫টি অনুমোদন পায় এবং অবশিষ্ট ১৪টি পরবর্তী সভায় পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য