গাজীপুরের শ্রীপুরে ৯ম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে দুই দফা অপহরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সহযোগীসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হলেও মূল অপহরণকারী এখনও পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মাওনা তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ ফারিহা (১৬) মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহৃত হয়। শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে মোঃ আবিদ (২১) ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পরিবারের চাপে ১৫ এপ্রিল সকালে অভিযুক্ত আবিদ ভিকটিমকে তার বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে সালিস বৈঠক বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। বৈঠকের একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে আবিদ ও তার সহযোগীরা ভিকটিমের স্বজনদের মারপিট করে বসতঘর থেকে ফারিহাকে পুনরায় অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা হাদিউল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৩১) দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো: শরীফ উদ্দিনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযানে নামে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুরের নয়নপুর এমসি বাজার এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ী থেকে ভিকটিম ফারিহাকে উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল আসামি আবিদ ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানা পুলিশ জানায়, মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় ২ জনসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। উদ্ধারের পর ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, মামলার মূল আসামি মোঃ আবিদসহ পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন শ্রীপুর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ লাল চাঁন মিয়া। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অভিযুক্ত যুবকের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের জের ধরে মাদ্রাসাছাত্রী স্বেচ্ছায় যুবকের সাথে চলে গেছে। এ নিয়ে স্খানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছে। তবে, একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। অপরদিকে, ছাত্রীর বয়স কম (অপ্রাপ্ত বকয়স্ক) হওয়ায় প্রেমের বিষয়টি আইনী ভিত্তি পাবে না। এক্ষেত্রে ছাত্রীর অভিভাবকের মতামত অগ্রাধিকার পাবে বলে কেউ কেউ মতামত প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য