![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর | ২৪ মে, ২০২৬:
গাজীপুরের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘গণবাণী ডট কম’-এর প্রকাশক-সম্পাদক এবং দুটি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ওপর হামলা, টাকা ছিনতাই ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে দায়ের মামলায় হামলাকারী নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, গাজীপুরের সদর উপজেলার বাড়ী ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের মো: মোতালিব ম্লোর ছেলে হান্নান মোল্লা (৫১), গাজীপুর মহানগরীর পূর্ব চান্দনা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ লতিফ সরকার টুটুল (৫০), গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের মো: আব্দুল খালেকের ছেলে নজরুল ইসলাম আজহার (৫২) এবং একই এলাকার বাসিন্দা ও হামলাকারী নারী খাদিজা আক্তার (৩১)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, জিএমপি সদর মেট্রো থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মো: উজ্জল হোসেন তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ ধারা এবং ২৫ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এই চার্জশিট (নং-২১২) দাখিল করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের আইনজীবি এ্যাড. লুৎফর রহমান ও জিএমপির কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো: আহসান উল্লাহ।
সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের আইনজীবি এ্যাড. লুৎফর রহমান আরো জানান, বিজ্ঞ আদালতে আজ রোববার (২৪ মে) ছিল মামলাটির শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখ। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক দাখিল করা অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে থাকা আসামীদের জামিন বাতিলের জন্য বাদী পক্ষের একটি আবেদন শুনানীর জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
![]()
মামলার বিবরণ ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, পেশাগত ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এজাহার নামীয় ১ হতে ৩ নং আসামীগণ পোশাগত এবং বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়া সাংবাদিক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সাথে শত্রুতা করিয়া আসছিল। আসামীরা সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের জানমালের ক্ষতিসাধনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সুযোগ সন্ধানে থাকে। অভিযুক্ত আসামী হান্নান মোল্লা সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে জড়িয়ে ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া, বানোয়াট ও মানহানিকর বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করে আসছিল। এসব কারণে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান প্রতিকারের আসায় পূর্বে আসামী হান্নান মোল্লার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি আইনী কোন প্রতিকার পাননি।
কিন্তু, সে সময়ে আসামী হান্নান মোল্লা ফ্যাসিস্ট সরকারের আশির্বাদপুষ্ট হওয়ায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের মামলা থানায় রেকর্ড করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি একাধিকবার থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। কিন্তু তাতেও আসামী হান্নান মোল্লা নিবৃত্ত হয়নি, বরং তার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার অব্যাহত থাকে। গত ২০২৪ খ্রি সালের এপ্রিল মাসে হান্নান মোল্লা সাংবাদিক আসাদ রাজাকারের ছেলেসহ নানা রকম মানহানিকর বক্তব্যসহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের অনেক মন্ত্রী, সরকারী কর্মকর্তাদের নিকট ই মেইল পাঠিয়ে বিচার দাবী করে। এসব ই মেইলের সিসি সাংবাদিক আসাদকেও ই মেইলে পাঠানো হয়। যা সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দেখেন। এতে সাংবাদিক আসাদের সুনাম ও মর্যাদা নষ্ট হয়। এসব কারণে একই বছরের এপ্রিল মাসে সাংবাদিক আসাদ বাদী হয়ে হান্নান মোল্লার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালত, গাজীপুরে বাদী ২ কোটি টাকার মানহানি মামলা (সিআর নং-৫৭২/২০২৪) দায়ের করেনি। যা বর্তমানে রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।
উক্ত মামলা থেকে রক্ষা পেতে ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখ সকাল সোয়া ১১টার দিকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পেশাগত কাজে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন হাবিবুল্লাহ সরণির ‘ইকবাল কুটির’ অফিস থেকে নগর ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ওত পেতে থাকা আসামী খাদিজা আক্তার কথা বলার অজুহাতে তাঁর পথরোধ করেন। আসাদ তাকে চিনেন না জানালে খাদিজা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর শার্টের কলার ধরে টানা-হেঁচড়া এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
![]()
খাদিজা আক্তারের সংকেত পেয়ে পূর্ব থেকে লুকিয়ে থাকা অন্য তিন আসামি হান্নান মোল্লা, লতিফ সরকার টুটুল ও নজরুল ইসলাম আজহারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন এসে আসাদকে ঘেরাও করে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সড়কে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ (মব) তৈরির চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামি হান্নান মোল্লা আসাদের প্যান্টের পকেট থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
আসামি লতিফ সরকার ও নজরুল ইসলাম করার উদ্দেশ্যে এই পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। আসাদ নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী ‘মন্ডল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স’-এ আশ্রয় নিলে আসামিরা সেখানেও ঢুকে তাঁকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ধারণকৃত ভিডিওটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি, বিভিন্ন পেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এমনকি ভিডিওটি দিয়ে বিভিন্ন ‘রিলস’ তৈরি করে প্রচার করায় সাংবাদিক আসাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত পেশাগত সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয় ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
![]()
ঘটনার পর সাংবাদিক আসাদুজ্জামান নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে জিএমপির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি ফোনে জানিয়ে সহায়তা কামনা করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পরে সাংবাদিক আসাদ সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে হামলাকারী খাদিজা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র তৈরি এবং ১৬১ ধারায় সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর ১৬ পাতার স্ক্রিনশট এবং ১টি ভিডিও সিডি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ।
সার্বিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য