![]()
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা ০৬ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান (Hakan Fidan) এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, আঙ্কারা ঢাকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে অত্যন্ত আগ্রহী। দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ। বর্তমানে চলমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই বাণিজ্য বাধা দূর করতে এবং নতুন নতুন খাতে যৌথ বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিষয়ে তুরস্ক তাদের পূর্ব অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আশ্বস্ত করেছেন যে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সংকট সমাধানে তুরস্ক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ই নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং জলবায়ু সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, এবং মানবিক সহযোগিতার মতো খাতগুলোতে যৌথ অংশীদারিত্ব আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনীতিকেই আরও সমৃদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছেন।
মন্তব্য