
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর | ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় জুয়েলারি দোকানের মালিক ও স্বর্ণকার আবুল কালাম আজাদকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আসামিদের গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মোঃ নাছির উদ্দিন (৩২) এবং মধুপুর উপজেলার মোঃ সুজন মিয়া (২৭)। গ্রেফতারের সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার, নিহতের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে তিনটা থেকে ভোর সোয়া পাঁচটার মধ্যে যেকোনো সময় মহানগরীর গাছা থানাধীন ভূষিরমিল রোড এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ নামের দোকানে ঢুকে এর মালিক আবুল কালাম আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে দোকানে থাকা বিভিন্ন অলংকার লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় পরদিন ২৪ আগস্ট নিহতের ভাই মোঃ কামাল হোসেন বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৩৮) দায়ের করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪৪৮/৩০২/৩৯৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনায় তদন্তে নামে পুলিশ। গাছা থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আব্দুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাছির ও সুজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া মালামাল ও নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের নিয়ে ঘটনাস্থলের পাশে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও জব্দ করা হয়।
জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে, তারা স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে হত্যাকান্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি আরো জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত ও জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য