![]()
গাজীপুর জেলায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবাগত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন (পিপিএম)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এককভাবে পুলিশের পক্ষে সাফল্য পাওয়া কঠিন। এর জন্য গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা ও সামাজিক আন্দোলন অত্যন্ত জরুরি। তিনি গাজীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল জেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিরাপদ সমাজ গঠনে জনগণের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার কোনো বিকল্প নেই।
মাদকের ভয়াবহতা রোধে পুলিশ সুপার একটি শক্তিশালী বার্তা দেন। তিনি বলেন, মাদক এখন আর কোনো একক সমস্যা নয়; এটি নির্মূলে পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
সভায় উপস্থিত গাজীপুর মহানগর (সদর), কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে চুরি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা এবং চাঁদাবাজি রোধে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা। সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নোট করেন এবং পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেন যে, মাঠপর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কোনো অপরাধকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না”।
জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিএসবি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রেজা এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভার শেষে পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার মাধ্যমে গাজীপুরকে একটি অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার শপথ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য